প্রোগ্রামিং শুরুতে...লেকচার-৪
প্রোগ্রামিং শেখার শুরু দিকে অনেকেই বিশাল বিশাল বই দেখে হয়তো ভয় পেয়ে যায়। এত বিশাল বই, এত্ত কিছু শিখতে হবে। এত কিছু জানতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বই গুলো বিশাল হওয়ার কারণ একটু পরেই বলছি।
তবে জিনিসটা অবশ্যই এমন নয়। বিশাল বই পড়ে কিছুই মনে রাখতে হয় না। মুখস্ত করতে হয় না কিছু। শুধু জানতে হয় কিভাবে প্রোগ্রাম লিখতে হয়। কোন সিনট্যাক্স মুখস্ত করতে হয় না। শুধু জানতে হয় কিভাবে লিখে।
প্রোগ্রামিং হচ্ছে লজিক। আমরা বাস্তব জীবনে যেমন লজিক খাটাই, তেমন লজিক। এগুলো মুখস্ত করতে হয় না। শুধু গুছিয়ে চিন্তা করতে হয়। শুধু জানতে হয় কিভাবে গুছিয়ে চিন্তা করা যায়। একটা উদাহরণ দি, যেমন “যদি হরতাল হয় তাহলে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবে না। যদি হরতাল না হয়, তাহলে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবে।”এ জিনিসটা আমরা ঠিক যে ভাবে চিন্তা করেছি, প্রোগ্রামিং এ ঠিক এমনি।এটাকে যদি আমরা সুডো কোডে লিখি তাহলেঃ
যদি দিন=হরতাল
গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবে না
অন্যথায়
গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবে ... হাহা কি আন্দর !!
এতই সহজ প্রোগ্রামিং।
বই গুলো বিশাল হয় কারণ ঐখানে প্রোগ্রামিং করে কি কি করা যায়, এমন অনেক গুলো উদারহণ দেওয়া থাকে। দেওয়া থাকে অনেক লাইব্রেরীর ব্যবহার প্রনালী। তো এসব শুধু একবার পড়লেই হয়। না পড়লেও সমস্যা হয় না। যদি পড়া থাকে, তাহলে প্রোগ্রাম লিখতে দারুণ কাজে দেয়।যেহেতু আমাদের কোড মুখস্ত করতে হয় না, আমরা বই এর ঐ অংশ থেকে দেখে দেখেই লিখে ফেলতে পারি।
আর কোড গুলো লেখা হয় IDE(Integrated Development Environment) ব্যবহার করে। উপরে আমরা if else দিয়ে একটা প্রোগ্রাম লিখছি। IDE গুলো i লেখার সাথে সাথেই বুঝে যায় আমরা কি লিখতে যাচ্ছি, বাকি কোড গুলো অটোমেটিক লেখা হয়ে যায়। সত্যিই অসাধারণ। শুধু একবার শুরু করতে হবে। কিছু সময় ব্যয় করতে হবে।সময় দিলে সাফল্য আসবেই।
প্রোগ্রামিং শেখার জন্য বই এর দুই একটা চ্যাপ্টার ঠিক মত পড়লেই হয়, সিনট্যাক্স গুলো জানলেই হয়। সিনট্যাক্স গুলো বুঝতে হবে। বাকিটা যে যার মত করে লিখে ফেলতে পারে। নিজ নিজ ক্রিয়েটিভিটি প্রয়োগ করে। আর আমাদের সবার ক্রিয়েটিভিটি ইউনিক।কারোটা দিয়ে কারোটা রিপ্লেস করা যায় না। আমরা অনেকেই জানি না আমরা কতটা ক্রিয়েটিভ। আর তা জানতে হয়, আর জানার জন্য চোখ বন্ধ করে না থেকে একটু চারপাশ তাকাতে হয়।
প্রোগ্রামিং এর সবচেয়ে মজার পার্ট বলি। একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বলি। ধরে নিচ্ছি আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে উচু টাওয়ারটা বানাবো। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচু বিল্ডিং কোনটা? সম্ভবত Burj Khalifa, তাই না? ১৬৩টি ফ্লোর রয়েছে। আমরা চাচ্ছি এর থেকেও বিশাল একটা বিল্ডিং বানাতে, যার মধ্যে ২০০টি ফ্লোর থাকবে। তো বাস্তবে জিনিসটা বানাতে আমাদের নতুন করে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। অনেক বছর লেগে যাবে। প্রোগ্রামিং এ কেউ যদি ১৬৩ তলা সমান একটা প্রোগ্রাম বানিয়ে রাখে, আমরা চাচ্ছি ২০০ তলা সমান একটা প্রোগ্রাম বানাতে, তখন আমরা ১৬৩ তলা থেকেই কাজ শুরু করতে পারব। শুরু থেকে কিছুই করতে হবে না। কত সময় বেঁচে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে দারুণ কিছু। চমৎকার না?
প্রোগ্রামিং জানা সত্যিই চমৎকার।

No comments